প্রসাবে জ্বালা পোড়া হয় কী কারনে? প্রসাবে জ্বালা পোড়া থেকে মুক্তি পাবার উপায়


প্রসাবের জ্বালাপোড়া অনেকের হয়ে থাকে। কিন্ত আমরা কখনো জানতেও চাইনা যে মূলত কী কারণে প্রসাবে জ্বালাপোড়া হয়। অনেকের প্রসাবের সময় ব্যাথা জ্বালাপোড়া হয়। এটি কোন রোগ নয় এটি আমাদের নারী পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। এটি নারী ও পুরুষের প্রচলিত একটি সমস্যা। তবে আমাদের পুরুষের তুলনায় নারীরা এই সমস্যায় একটু বেশী আক্রান্ত হন।



সঠিক ক্ষেত্রে প্রসাবে জ্বালাপোড়া হওয়ার জন্য মূল দ্বায়ী হচ্ছে আমরা হ্যা আমাদের কিছু খারাপ অভ্যাসের কারণে এই সমস্যা হয়ে থাকে।

তাহলে চলুন যেনে নেই প্রসাবে জ্বালা-পোড়া কী কী কারণে হয়:

·         যোনিপথে ছত্রাক সংক্রমন বা ক্ল্যালাইডিয়ার মতো জীবানু সংক্রমণের কারনে হতে পারে।
·         তলপেটে মাসিক এর কারনে হতে পারে।
·         অ্যালার্জির কারনে প্রসাবে জ্বালা-পোড়া হতে পারে।
·         উত্তেজিত হওয়ার পর বীর্জপাত না করলে হতে পারে।
·         অতিরিক্ত হস্তমৈথুনের কারনে হতে পারে।
·         সল্প পানি পান করার জন্য হতে পারে।
সাধারণ ভাবে এই কারন গুলোর মাধ্যমে প্রসাবে জ্বালা-পোড়া হয়। এছাড়া ডায়াবেটিস এর কারনে এই জ্বালা-পোড়া হয়ে থাকে। তবে ছেলেদের থেকে মেয়েদের এই রোগে আক্রান্ত বেশি হয়ে থাকে। বিশেষ করে মধ্যাবয়সী ও বয়স্কনারীদের প্রসাবে বেশি জ্বালা-পোড়া হয়ে থাকে। প্রসাবে সংক্রমন হলে অবশ্যই ডাঃ এর পরামর্শ নেয়া উচিৎ। যাদের ঘন ঘন সংক্রমন হয় তারা ডাঃ এর চিকিৎসা নিতে পারেন। এক্ষেত্রে সাবধান থাকতে হবে তার কারন হচ্ছে প্রসাবে জ্বালা-পোড়া থেকে বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে।

 তবে কিছু ঘড়োয়া উপায় মেনে চললেই বাড়িতে বসেই এই রোগের থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

তাহলে চলুন যেনে নেয়া যাক প্রসাবে জ্বালা-পোড়া থেকে মুক্তির উপায়ঃ

১. মাছ-মাংস নয় প্রচুর পরিমানে খাদ্যভাসে শাক-সবজি খেতে হবে। প্রসাবে জ্বালা-পোড়া হলে সেক্ষেত্রে সমস্যা ঠিক না হওয়া পযর্ন্ত আমিষ খাওয়া হতে বিরত থাকতে হবে। তাই এসময়ে আমিষ বিরত রেখে শাক-সবজি খেতে হবে।

২. প্রচুর পরিমানে পানি পান করুন। বিশেষ ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে পানি কম পান করার জন্য প্রসাব হলুদ এবং জ্বালা-পোড়া সৃষ্টি করে থাকে। তাই প্রচুর পরিমানে পানি পান করুন। সাধারনত একটা সুস্থ্য শরীরের জন্য ২-৩ লিটার পানি পান করা আবশ্যক। তাই এসময়ে আপনি বেশি পরিমান পানি পান করুন।

৩. প্রসাবে জ্বালা-পোড়ার সময় দই পান করুন। দইয়ে রয়েছে সাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়া। এটি শরীরে পি এইচ এর ভারসাম্য রক্ষা করে। প্রসাবে জ্বালা-পোড়া কমাতে আপনি প্রতিদিন ২-৩ কাপ দই খান।

৪. সঙ্গীর সাথে মেলামেশার সময় আগে একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে সঙ্গীর প্রসাবে সংক্রমন হয়েছে কি না। যদি সঙ্গীর প্রসাবে সংক্রমন হয়ে থাকে তাহলে আপনি সঙ্গীর সাথে মেলা-মেশা থেকে দুরে থাকুন। কারন সঙ্গীর প্রসাবে সংক্রমন হলে তা আপনার শরীরেও হতে পারে। তাই এ অবস্থায় সঙ্গীর সাথে মেলা-মেশা হতে বিরত থাকুন।

৫. জ্বালা-পোড়া থেকে মুক্তি পাবার জন্য আপনি গরম চাপ দিতে পারেন। এতে আপনার ব্লাডের চাপ কমবে এবং ব্যাথা কমবে। এজন্য আপনি হিটিং প্যাড ব্যবহার করতে পারেন অথবা কোন কাপড় তাপে গরম করে তা পেটের মধ্যে শেক দিতে পারেন। এই পদ্ধতিটি ঠিকঠাক ভাবে সাহায্য করবে।

৬. প্রসাবে জ্বালা-পোড়া থেকে মুক্তি পাবার জন্য আপনি তরল খাবার বারিয়ে দিন। যেমন- জুস, ফল ও সবজি খেতে পারেন।

৭. অতিরিক্ত হস্তমৈথুন এর কারনে আপনার যৌনঙ্গ দূর্বল এর মাধ্যমে আপনার প্রসাবের মাত্রা কমে যায়। তাই প্রসাবে  জ্বালা-পোড়া থেকে মুক্তি পাবার জন্য আপনি হস্তমৈথুন নামক খারাপ অভ্যাস হতে বিরত থাকুন।

৮. কোন কিছু উত্তেজনার পর বীর্জ-পাত করুন। গবেষনায় দেখা গেছে যে উত্তেজিত হওয়ার পর রগের মধ্যে সরবরাহ হয়ে যায় আর আপনি যদি সেই মূহুর্তে বীর্জপাত না করেন তাহলে আপনার বীর্জটি প্রসাবের সাথে মিশ্রিত হয় যার ফলে প্রসাবে জ্বালা-পোড়া সৃষ্টি হয়। তাই উত্তেজিত হওয়ার পর বীর্জপাত করুন।

এই সকল নিয়মগুলো মেনে চললে আপনি প্রসাবে জ্বালা-পোড়া হতে চিরতরে মুক্ত পেতে পারেন। তাই নিজেকে সুস্থ্য রাখুন। প্রসাবে জ্বালা-পোড়া থেকে বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে। তাই আপনি যদি বেশি সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে পারেন তাহলে অবশ্যই ডাঃ এর সাথে দেখা করে পরামর্শ নিন।

Post a Comment

0 Comments